বাবা-মায়ের কাছে সন্তানের সামান্য অসুস্থতাও পাহাড় সমান দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে মাঝরাতে যদি হঠাৎ শিশুর শরীর গরম হয়ে ওঠে, তখন অধিকাংশ মা-বাবাই আতঙ্কে দিশেহারা হয়ে পড়েন। কিন্তু মনে রাখা জরুরি যে, জ্বর কোনো রোগ নয়, বরং এটি একটি লক্ষণ। যখন শিশুর শরীরে কোনো জীবাণু (ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া) প্রবেশ করে, তখন শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে। আর এই যুদ্ধের ফলেই শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যায়।
শিশুর জ্বর আসলে কত? (How to Measure Temperature)
স্বাভাবিক তাপমাত্রা: ৯৮.৬° ফারেনহাইট (৩৭° সেলসিয়াস)। জ্বর: যদি বগলের নিচে তাপমাত্রা ৯৯° ফারেনহাইট বা তার বেশি হয় অথবা মুখে বা মলদ্বারে ১০০.৪° ফারেনহাইটের বেশি হয়।
শিশুর জ্বর হওয়ার সাধারণ কারণসমূহ
শিশুর জ্বর হলে ঘরোয়া প্রতিকার (Home Care Guidelines)
ক. জলপট্টি ও শরীর মোছানো (Tepid Sponging)
পদ্ধতি: সাধারণ তাপমাত্রার পানি (খুব ঠাণ্ডা বা বরফ পানি নয়) দিয়ে একটি পরিষ্কার কাপড় ভিজিয়ে শিশুর কপাল, ঘাড়, বগল এবং কুঁচকি বারবার মুছিয়ে দিন। শরীর থেকে পানি শুকিয়ে যাওয়ার সময় তা তাপ শুষে নেয়। সতর্কতা: গোসল করানোর প্রয়োজন নেই, শুধু শরীর মুছিয়ে দেওয়াই যথেষ্ট।
খ. পর্যাপ্ত তরল খাবার ও হাইড্রেশন
বুকের দুধ: যদি শিশু ছোট হয়, তবে তাকে বারবার বুকের দুধ খাওয়ান। অন্যান্য তরল: বড় শিশুদের ক্ষেত্রে পানি, ডাবের পানি, ওরস্যালাইন বা ফলের রস দিন।
গ. পাতলা ও আরামদায়ক পোশাক
ঘ. বিশ্রাম
জ্বরের সময় শিশুর খাদ্য তালিকা (Diet During Fever)
নরম খিচুড়ি: চাল, ডাল ও সবজি দিয়ে তৈরি নরম খিচুড়ি যা সহজে হজম হয়। স্যুপ: চিকেন স্যুপ বা সবজি স্যুপ ভিটামিন ও মিনারেলের ভালো উৎস। ফল: ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ ফল যেমন মাল্টা বা লেবুর শরবত। জাউ ভাত বা সাগু: এগুলো পেট ঠান্ডা রাখে এবং শক্তি যোগায়।
ওষুধের সঠিক ব্যবহার: প্যারাসিটামলের মাত্রা
ডোজ: সাধারণত প্রতি কেজি ওজনের জন্য ১০-১৫ মিলিগ্রাম প্যারাসিটামল ৬ ঘণ্টা পর পর দেওয়া যায়। সতর্কতা: ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোনোভাবেই এন্টিবায়োটিক বা এসপিরিন (Aspirin) জাতীয় ওষুধ দেবেন না। এসপিরিন শিশুদের ক্ষেত্রে 'রে সিনড্রোম' নামক ভয়ংকর লিভারের সমস্যা তৈরি করতে পারে।
ডেঙ্গু জ্বর নিয়ে বিশেষ সতর্কতা
চোখের পেছনে ব্যথা। শরীরে লালচে র্যাশ বা দানা। প্রচণ্ড পেট ব্যথা বা বমি। মাড়ি বা নাক দিয়ে রক্তপাত। তবে তাকে সাধারণ জ্বর মনে করবেন না। দ্রুত ডেঙ্গু পরীক্ষা করান।
খিঁচুনি বা ফেব্রাইল কনভালশন (Febrile Seizure)
করণীয়: শিশুকে একপাশে কাত করে শুইয়ে দিন যাতে মুখ থেকে লালা বেরিয়ে যেতে পারে। মুখে চামচ বা অন্য কিছু ঢোকাবেন না। সাধারণত ৩-৫ মিনিটের মধ্যে এটি থেমে যায়। তবে খিঁচুনি থামার পর অবশ্যই ডাক্তার দেখান।
কখন দ্রুত বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখাবেন? (বিপদচিহ্ন)
শিশুর জ্বর নিয়ে সাধারণ জিজ্ঞাসা
জ্বরের সময় কি শিশুকে ফ্যানের নিচে রাখা যাবে?
হ্যাঁ, তবে ফ্যানের বাতাস যেন সরাসরি শিশুর গায়ে খুব জোরে না লাগে। হালকা বাতাস চলাচল করলে শরীরের তাপমাত্রা কমতে সাহায্য করে।
সর্দি-কাশি ছাড়া শুধু জ্বর হলে কি চিন্তার কিছু আছে?
অনেক সময় ইউরিন ইনফেকশন বা অন্য কোনো অভ্যন্তরীণ সংক্রমণের কারণে সর্দি ছাড়াও জ্বর হতে পারে। ৩ দিনের বেশি থাকলে পরীক্ষা করা জরুরি।
জ্বর হলে কি গোসল করানো যাবে?
জ্বরের প্রথম ৪৮ ঘণ্টা গোসল না করানোই ভালো। এর বদলে হালকা কুসুম গরম পানি দিয়ে শরীর মুছে দেওয়া বেশি কার্যকর।
রাতে জ্বর বাড়লে কী করব?
প্যারাসিটামল দিয়ে জলপট্টি দিন। যদি তাপমাত্রা ১০৩° পার হয়, তবে ডাক্তারকে ফোন দিন বা ইমারজেন্সিতে যোগাযোগ করুন।
হঠাৎ মাথা ঘোরা কেন হয়? কারণ ও প্রতিকার
কেন DaktarBooking আপনার শিশুর স্বাস্থ্যের সেরা সঙ্গী?
সেরা শিশু বিশেষজ্ঞ (Pediatrician): দেশের স্বনামধন্য শিশু বিশেষজ্ঞদের তালিকা থেকে মুহূর্তেই অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিন। ভিডিও কনসালটেশন: বাসার বাইরে তীব্র জ্বরে আক্রান্ত শিশুকে না নিয়ে ভিডিও কলের মাধ্যমে অভিজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিন। ল্যাব টেস্ট বুকিং: ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া বা ইনফেকশন পরীক্ষার জন্য নিকটস্থ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অফার ও সিরিয়াল পান এক ক্লিকে। জরুরি অ্যাম্বুলেন্স: যদি শিশুর অবস্থা গুরুতর হয়, তবে দ্রুত হাসপাতালে নিতে আমাদের অ্যাম্বুলেন্স নেটওয়ার্ক ব্যবহার করুন।
মন্তব্য করুন
সকল মন্তব্য (0)
এখনো কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!